স্টাফ রির্পোটার সৈয়দপুর (নীলফামারী):

নীলফামারী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের দুই উদ্যোমি যুবক জুলফিকার রহমান বাবলা ও মোঃ সেলিম আল মামুন বাবু তাদের পুকুরেই স্বাদু পানিতে চাষ শুরু করেছেন ঝিনুকের মুক্তা। ঝিনুকের পাশাপাশি একই পুকুরে মাছ চাষও করছেন তারা।

আভিজাত্য ও সৌখিনতার মূল উপসর্গ মূল্যবান রতœ মুক্তা এতদিন প্রাকৃতিক ভাবেই সংগ্রহ করা হলেও এখন স্বাদু পানিতে চাষ হচ্ছে মুল্যবান এই রতেœর। সাফল্যও পেয়েছেন তারা। এ পর্যন্ত তারা ২০০ পিছ ইমেজ মুক্তা উৎপাদন করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইন্সটিটিউটে জমা দিয়েছেন। তবে উত্তরের জেলা নীলফামারীর ডোমারের এই দুই যুবক বাজারজাতকরনকে প্রধান বাঁধা মনে করছেন।

অপরদিকে মিঠা পানিতে মৎস্যচাষ গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, মুক্তার বাজার তৈরীতে সরকার কাজ করছে, মিঠা পানিতে মুক্তা চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দুরীকরন সহ প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

২০১৮ সালের জুনে জুলফিকার রহমান ও সেলিম আল মামুন তারা দুজনে যান বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউটে মুলতঃ মাছ চাষের উপর ট্রেনিং নিতে। সেখানেই জানতে পারেন মিঠা পানিতে মুক্তা চাষও করা যায়। জুলাই মাসেই সেখান থেকে মুক্তা চাষের প্রশিক্ষণ নিয়েই ফিরে এসে শুরু করেন ছোট্ট পরিসরে ১ টি পুকুরে ৬ টি ঝিনুক নিয়ে চাষ। সাফল্য পেয়ে আবারও প্রশিক্ষন নিয়ে বৃহৎ পরিসরে ৫টি পুকুরে প্রায় ১লাখ ঝিনুক নিয়ে চাষ শুরু করেন তারা।

বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত ঝিনুকের মধ্যে ইমেজ স্থাপন করে ৫০ থেকে ৬০ মিনিট ঝিনুকটিকে উর্দ্ধমুখী করে রেখে ৩ থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে ঝিনুকগুলোকে ছোট ছোট ফাঁসের নাইলন নেটের ৪০বর্গ থেকে ৩৫বর্গ সে.মি. সাইজের ব্যাগে প্রতিটিতে ৪ থেকে ৫ টি করে ঝিনুক রেখে রশির সাহায্যে পুকুরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তারপর ২৫ দিন পর এগুলোকে আবার পুকরে ছেড়ে দিতে হয়। পুকুরে ১৫ দিন পরপর ঝিনুক গুলোকে পর্যবেক্ষন করতে হয়। মৃত ঝিনুক সরিয়ে ফেলতে হয়। এভাবেই ব্যবহার উপযোগী ইমেজ মুক্তা তৈরীতে সময় লাগে ৭ থেকে ৮ মাস।

এই দুই মুক্তা চাষী বর্তমানে তিন ধরনের মুক্তা চাষ করছেন। এগুলো হচ্ছে-ইমেজ পার্ল, রাইস পার্ল ও নিউক্লি পার্ল। ইতোমধ্যে তারা ২ শত পিছ ইমেজ পার্ল উৎপাদন করে বাংলাদেশ মৎস গবেষনা ইনস্টিটিউটে জমা দিয়েছেন। রাইস পার্ল ও নিউক্লি পার্ল এখনো পরিপুর্ণ হয়নি। এগুলো এখনো পুকুরেই রয়েছে। এগুলো পরিপুর্ন হতে সময় নেয় ২ বছর।

দুইজন মুক্তা চাষী জানান, মুক্তা চাষে সফল্য পেলেও অর্থনৈতিক ভাবে এখনো সফলতার মুখ দেখিনি। মুক্তার বাজার পাওয়াটাই বড় সমস্যা। তবে রাইজ ও নিউক্লি পার্ল উৎপাদন শেষ হলেই খুব দ্রুত আমরা আর্থিক সফলতা পাবো। কারন রাইজ ও নিউক্লি পার্লের দেশিও ভাবে চাহিদা রয়েছে।

মুক্তা চাষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে এই প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে । এই চাষে সফলতা আসলে বেকারত্ব দুরিকরণ সহ বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা যাবে। মুক্তা চাষে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগীতা করা হচ্ছে।

mktelevision.net/আফরোজ আহমেদ সিদ্দিকী ( টুইংকেল)/হাবিব ইফতেখার /শাহিনুর রহমান /জেসমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*