বাংলার মাটি দূর্জয় ঘাটি, বুঝে নিক দূর্বৃত্ত, এই দূর্জয় বাংলার এক সদাসচেতন জনপদ পার্বতীপুর ভূভাগ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবাঙ্গালী অধ্যুষিত দিনাজপুরের পার্বতীপুর পাকহানাদার মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর। বহু রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাস আসে। তখন বীরমুক্তিযোদ্ধারা বুঝতে পারলেন, স্বাধীনতার সূর্যোদয় পূর্বআকাশে উঠবেই। আরো দৃঢ় প্রত্যয়ে বীর বিক্রম গতিতে পার্বতীপুরের চারদিকে থেকে বীরমুক্তিযোদ্ধারা ঘেরাও করে এগিয়ে আসা শুরু করে। তা দেখে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় পাক সেনাসহ মালোয়েশিয়া বাহিনীর মনবল। পিছু হটতে থাকে তারা। সেই সময় ভারতীয় বাহিনীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভারী কামান সাজোয়াবহর ইতোমধ্যে সীমান্তে এসে যায়। ভবানিপুর, বেলাইচন্ডি, খোলাহাটি, হাবড়া, হরিপুর এলাকা দিয়ে পার্বতীপুরের চারদিকে ঘিরে রাখে বীরমুক্তিযোদ্ধা।

খানসেনা, অবাঙ্গালীসহ রাজাকারা বুঝতে পারে তাদের অস্তিত্ব নিয়ে, তাই তারা পার্বতীপুর শহরে একত্রিত হতে থাকে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে কিছু অবাঙ্গালী পার্বতীপুর ত্যাগ করা শুরু করে।

১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় পার্বতীপুর রেলওয়ের তেল ট্যাংকার ধ্বংশ হয়। সেই সাথে আগুন ধরে যায়। সেই আগুনের ধু¤্র কুন্ডলী ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরসহ পতিরাম ইউথ ক্যাম্প থেকেও দেখা গিয়েছিল। তখন মুক্তিপাগল যোদ্ধারা আরো েিপ্রা গতিতে আক্রোমন করে বসলে শহরে অবস্থানরত অবাংগালীসহ তাদের দোষরদের সাথে প্রচন্ড গুলি বিনিময় হয়। চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমনের মুখে পার্বতীপুরের খান সেনাসহ রাজাকার এবং অবাংগালীরা পার্বতীপুর এলাকা ছেয়ে ট্রেনযোগে সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়।

এদিকে আগে থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা বেলাইচন্ডীর বানি ঘাট নামক স্থানে মাইন পুতে রেখেছিল। সেই মাইন বিস্ফোরণে ধ্বংশ হয়- পালিয়ে যাওয়া শেষ সামরিক গাড়ীটি। এতে একজন লেপটেনেন্ট, একজন কর্ণেলসহ একজন মেজর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করে। চারিদিকে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ১৫ ডিসেম্বর ভোর রাত থেকেই মুক্তিযোদ্ধাসহ বিজয় উল্লাসিত মানুষ পার্বতীপুর শহরে প্রবেশ করেই শহিদ ভবন যা বর্তমান পৌরসভা নামে পরিচত এবং পার্বতীপুরের বিশেষ বিশেষ ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তলন করা হয়। তাই এদিনটিকে পার্বতীপুর শত্রু মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*