রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় টাঙ্গাইলে এবার আখের ভাল উৎপাদন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগাম আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন চাষীরা। বাজারমূল্য কিছুটা কম হলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চাষীরা খুশি এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এলাকায় ধুম পড়ে গেছে আখ কাটা ও বিক্রিতে। তবে সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে টাঙ্গাইলে আখ চাষ করছেন আখ চাষীরা।

মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, ভালো জাত নির্বাচন, রোগব্যাধি কম থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হয়েছে। আগাম আখ বাজারে আসায় কৃষকরা দামও বেশি পাচ্ছে। চলতি বছর বিভিন্ন জাতের আখ আবাদ হয়েছে। অমৃত, রং বিলাশ, ঈশ্বরদী-১.২ সিএসি ২০৮ জাতের আখ রোপন করেছে কৃষকরা। আখ উৎপাদনে ঝুঁকি কম এবং অধিক ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয় করা যায়। যার কারণে আখের উৎপাদন খরচও কম হয়। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে বেশি লাভবান হন।

চলতি বছর জেলার ১১টি উপজেলায় আখের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সখীপুর উপজেলা পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় এখানে আবাদ করা হয়নি। চাষযোগ্য জমিগুলোতে যদি বন্যার পানিসহ অন্যান্যভাবে পানি দেয়া সম্ভব হতো তাহলে আবাদ আরও বৃদ্ধি করা যেতো। তবে এবার বৃষ্টিপাতের কারণে ফলন অনেক ভাল হয়েছে।

চাষীরা বলছেন অন্যান্যবারের তুলনায় এবার আখ আবাদ ভাল হয়েছে কিন্ত বন্যার কারনে দাম কিছুটা কম। সরকারীভাবে যদি সারসহ অন্যান্য সাহায্য সহযোগীতা পাওয়া যেতো তাহলে অধিক লাভবান হতে পারতেন।

জেলা কৃষি অফিস জানায় এ বছর আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন আখ চাষীরা। কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

গেল বছর জেলায় ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছিল এবং ২৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর টাঙ্গাইলে ৭৮৬ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে।

আব্দুল লতিফ/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*