আখাউড়া প্রতিনিধি:

হাওড়া নদী বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে বয়ে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা হয়ে তিতাস নদীতে মিলিত হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলার এ হাওড়ার একটি শাখা নদীর এপার ওপার রয়েছে একাধিক প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়,  মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান। উপজেলার দু’টি ইউনিয়নের ২২ টি গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ হচ্ছে এই নদীর উপরে ব্রীজটি।

জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বর্তমান সরকার ২০১৬ সালের ১৬ ই মার্চে দুই কোটি চব্বিশ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে টেন্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু অর্ধেক কাজ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার  আজ প্রায় এক বছর যাবত পারাপারের জন্যে একটি বাশেঁর সাকো নির্মাণ করেই ব্রিজের বাকি অংশের কাজ বন্ধ রেখেছেন এমতাবস্থায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া বাজারের ধাতুরপহেলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, গেলবছর স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ব্রীজ নির্মাণ কাজের উদ্ভোধন করেন। ব্রীজের অর্ধেক কাজ এখন পর্যন্ত বাকি রেখে নির্মান কাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পালিয়ে যায়। নির্নাণ কাজ বন্ধ থাকায় এবং নদী পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তভোগীরা জনসাধারণ।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিয়ন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান সিরাজ(৪৮) জানিয়েছেন, তার এক মাত্র মেয়ে অথৈ জাহান(৮) তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সে স্কুলে যাওয়ার সময় সাকো থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্কুল কলেজগামী কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীসহ এলাকার সাধারণ জনগন  প্রায়ই এই সাকো ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে নদীতে পড়ে আহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা  মো. জামিরুল ইসলাম মামুন বলেন, এমতাবস্থায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দিয়ে হলেও  যেন তাড়াতাড়ি ব্রীজের কাজটি সম্পন্ন করা হয় এবং যতদিন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন না হয় ততদিন যেন বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়।

আখাউড়া উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল হক জানান, বাজেটে ঠিকাদারের কোন বিকল্প রাস্তা তৈরি করার খরচ ধরা হয় নাই। তার পরেও ঠিকাদারকে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে যেন দ্রুত বাঁশ দিয়ে মানুষ চলাচলের উপযুক্ত একটি রাস্তা তৈরি করা হয়। এবিষয়ে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মো. ফিরোজ এর মোবাইলে একাধিকবার  ফোন করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদল আহম্মদ খান/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*