বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:
ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বেনাপোল আন্তজার্তিক চেকপোষ্টে সতর্কতা জারি করার কথা বলা হলেও আসলে এখানে তেমন কিছুই করা হচ্ছেনা। পূর্বে যেভাবে ছিল এখনো সে ভাবেই আছে। বেনাপোল পৌর এলাকার রাস্তা ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকা ময়লা আবর্জনা ও ছোপ ছোপ পানিতে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু জীবানুবাহী মশা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করছেন। সরেজমিনে রিপোর্ট করেছেন আমাদের বেনাপোল প্রতিনিধি মোঃ রাসেল ইসলাম ও ক্যামেরায় ছিলেন সবুজ মাহমুদ।

বেনাপোল দেশের আন্তজার্তিক চেকপোষ্ট। ডেঙ্গু সংক্রমিত এলাকাসহ সারা দেশ থেকে প্রতিদিন এ চেকপোষ্ট দিয়ে ৫ থেকে ৭ হাজার পাসপোর্টযাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে। ডেঙ্গু রোগ আজ ঢাকায় মহামারী আকার ধারন করেছে। প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগি রাখার জায়গা নেই। আর সেই ঢাকা থেকেই সবচেয়ে বেশী মানুষ বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারতে যাচ্ছে। এখানকার সাধারন মানুষ ধারনা করছেন ঢাকা থেকে আসা যাত্রীর মাধ্যমে বেনাপোলেও ডেঙ্গু রোগ দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রচার করছেন। বেনাপোল আন্তজার্তিক চেকপোষ্টে সতর্কতা জারি করা করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে সেখানে কোন কার্যক্রমই নেই।

ভারত থেকে আসা যাত্রীর গায়ের তাপমাত্রা মাপার জন্য এখানে স্ক্যানার মেশিন আছে, টেবিল চেয়ার আছে, কম্পিউটার আছে তবে সেখানে কোন ডাক্তার নেই।

ডেঙ্গু সতর্কতা নিয়ে কথা বললে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন স্বাস্থ্য সহকারি হঠাৎ এসে বলেন, সিভিল সার্জন আমাদের জানিয়েছেন কোন যাত্রীর গায়ে জ্বর আছে কিনা সেটা দেখতে। এ চেকপোষ্টে কর্মরত কাষ্টমস, পুলিশ, আনসার সকলেই রয়েছেন ডেঙ্গু আতঙ্কে। তারা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখানে একটি মেডিকেল টিম গঠন করলে আমরা সকলে স্বস্থি পেতাম। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ থেকে ৫ জন জ্বরে আক্রান্ত রোগি রয়েছেন। এরা প্রত্যেকে ১০ থেকে ১২ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে স্বাভাবিক জ্বরের।

এদিকে বেনাপোল পৌর এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চারিদিকে ছোপ ছোপ পানিতে গাছপাল জন্মে বাগান হয়ে গেছে। ড্রেনগুলি দীর্ঘদিন পরিস্কার না করার কারনে পোকা ও মশা মাছিতে ভরে গেছে। রাস্তুার চারপাশ গুলি ডাবের খোলা আর কর্দমাক্ত স্যাত স্যাতে অবস্থা। যা ডেঙ্গু মশা জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ। এ অবস্থার পরিবর্তন করা না হলে ডেঙ্গু মশার কবল থেকে এ এলাকার মানুষও রক্ষা পাবেনা। এখানকার মানুষ এখন ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন কাটাছে। পৌরবাসীরা বলছেন, বেনাপোলে দু‘এক বছরের মধ্যে মশা মারা ওষুধ ছিটানো হয়নি। ১০ বছর আগে একবার মশা মারার ওষুধ ছিটিয়ে ছিল পৌর সভা। তারপর আর কোনদিন চোখে পড়েনি। বেনাপোল পৌর মেয়র বললেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক আয়োজনের কথা।

বেনাপোল পৌর এলাকায় যাতে এডিস মশা বিস্তার লাভ না করে তার জন্য মাস ব্যাপী নেয়া হয়েছে নানা কর্মসুচি। আগাছা পরিস্কারসহ নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। বিনা মূল্যে পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। নেয়া হয়েছে জনসচেতনতা মূলক কর্মসুচি।

মোঃ রাসেল ইসলাম/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*