গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাতœক অবনতি হয়। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ও করতোয়া নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। অতিরিক্ত পানির তোপে গাইবান্ধা সদরের ঘাঘট ও ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদীর বাধ ভেঙ্গে শহরের অনেক অঞ্চলসহ ফুলছড়ির অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার অন্তত ৩’শতাধিক গ্রামের লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে ।

বুধবার সকালে ভরতখালি ইউনিয়নের পোড়াগ্রাম এলাকায় ১০০ মিটার বাঁধ ও সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সেখানে গাইবান্ধা-সাঘাটা আঞ্চলিক সড়কটি তলিয়ে গেছে। তীব্র গতিতে পানি প্রবেশ করে নতুনভাবে বন্যা কবলিত হচ্ছে বোনারপাড়া, পদুমশহর, ভরতখালি ও কচুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। পানির তোড়ে সান্তাহার-লালমনিরহাট-রংপুর রেলপথের গাইবান্ধার বাদিয়াখালি অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে বন্যার পানিতে বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গাইবান্ধা-সাঘাটা-ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা-সাদুল্যাপুর সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহষ্পতিবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৪৩ সেন্টিমিটার , ঘাঘট নদীর পানি ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। অপরদিকে তিস্তা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে গাইবান্ধা শহরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় জেলা প্রশাসক ও জজের বাসভবন, পিকে বিশ্বাস রোড, স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ সহ প্রায় সব এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। গাইবান্ধা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের জন্য ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে পৌরসভা বন্যার্তদের খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ অন্যান্য সামগ্রী দিচ্ছে।
খালেদ হোসেন/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*