গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। অতিরিক্ত পানির তোপে গাইবান্ধা সদরের ঘাঘট ও ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদীর বাধ ভেঙ্গে শহরের পূর্ব অঞ্চলসহ ফুলছড়ির অনেক এলাকা বন্যায় কবলিত হয়ে পড়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার অন্তত ২’শ ৫০ টি গ্রামের কয়েক লক্ষ মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। আমাদের গাইবান্ধা সহকর্মী খালেদ হোসেনের পাঠানো তথ্য ও ছবি নিয়ে দেখুন একটি ডেস্ক রিপোর্ট ডেস্কে আমি এস রহমান বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাইফউদ্দিন আহমেদ

উজানের পাহাড়ী ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে গাইবান্ধার নদ-নদী গুলোতে আশংকাজনক হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন বন্যা কবলিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে এসব এলাকার ঘড়বাড়ি বিভিন্ন ফসলী জমি ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পানি বৃদ্ধির সাথে ভাঙ্গন পরিস্থিতিও মারাতœক আকার ধারণ করেছে। জেলার ৪টি উপজেলার কমপক্ষে ২ লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দী। পানিবন্দী নিরাশ্রয় মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্যা কবলিত ৪ উপজেলায় চাল, নগদ টাকা ও অন্যান্য শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে ত্রান তৎপরতা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অন্যদিকে ভাঙ্গনের তোড়ে ৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ১৪৫টিতে পাঠদান বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরগঞ্জের বন্যা কবলিতরা জানান, তারা বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশু রাখার জায়গার অভাবে দূর্ভোগে আছেন। চর অঞ্চলের বন্যাকবলিতরা বন্যা মৈাসুমে গবাদি পশু ডাকাতের হাত থেকে বাচাতে প্রসাশনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। এদিকে প্রসাশন বলছেন বন্যাদূর্গতের সকল প্রকার নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার ১০৯ সে.মি, তিস্তার ১৬ সে.মি এবং ঘাঘট নদীর পানি ৬৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

খালেদ হোসেন/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/সাইফউদ্দিন আহমেদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*