আখাউড়ায প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া দেবগ্রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সহকারি ইংরেজি শিক্ষক শামসুল ইসলাম (পলাশ) কে গতকাল বিকালে গ্রেফতার করেছে আখাউড়া থানা পুলিশ।

 

অভিযোক্ত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবিতে আজ বুধবার সকালে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আখাউড়া-কসবা সড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। জানা গেছে, আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র ক্লাস নেয় সহকারি শিক্ষক শামসুল ইসলাম পলাশ। ওই শিক্ষক ক্লাসে একই বেঞ্চে বসা দুই ছাত্রীকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। এ সময় শিক্ষার্থী চিৎকার করার ভয় দেখালে ওই শিক্ষক দ্রুত কক্ষ ছেড়ে চলে যান। পরে ওই শিক্ষার্থীরা বাড়ি গিয়ে ঘটনাটি পরিবারকে জানায়। পরক্ষণে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজিত লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মিছিল স্লোগান দিতে থাকে।

 

এসময় অভিযুক্ত শিক্ষক শামসুল ইসলাম পলাশকে বিদ্যালয়ের দ্বি-তলা ভবনে প্রধান শিক্ষকের কার্যলয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত এলাকাবাসী। এসময় বিক্ষোব্দ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মাহফুজুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবি করেন।

 

এ ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা, আখাউড়া থানার ওসি রসুল আহম্মদ নিজামীর উপস্হিতিতে   অভিযুক্ত শিক্ষক শামসুল ইসলাম (পলাশ) কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় আখাউড়া থানা পুলিশ।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আকবর জানান, বিষয়টি এখন আদালতের ব্যপার তবে আমরা তার বিরুদ্ধে  বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এব্যাপারে আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ রসুল আহম্মেদ নিজামী বলেন আমরা ইতিমধ্যেই অভিযোক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছি। এবং যথাযথ আইনি পক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোক্ত কে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

 

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, এ ধরণের ঘটনা ক্ষমার যোগ্য নয়। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

বাদল আহাম্মদ খান/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*