বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:

 

“পুলিশ জনতা জনতাই পুলিশ” একটি প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে জনগণকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু বাস্তবতায় কি ফল ধরছে সমাজ নামক গাছটিতে। আধুনিকতার দীক্ষা নিয়ে পুলিশ প্রশাসন তৈরী করছে দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা বেপরোয়া হয়ে অর্থের লোভে সেই দক্ষতা জাহির করছে নি:অপরাধী, অসহায় জনগণের উপর।

চলুন দেখি যশোরের শার্শা থানায় লাশ নিয়ে এ কোন বানিজ্য চলছে? সরেজমিনে আমাদের সহকর্মী রাসেল ক্যামেরায় সবুজকে সাথে নিয়ে দেখুন একটি প্রতিবেদন। ডেস্কে আমার সাথে এস রহমান।

যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা গাজিপাড়া গ্রাম থেকে ১২ বছরের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহা পরানকে হত্যার পর ১১ দিন পেরিয়ে গেলে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সমালোচনার ঝড় থামিয়ে রহস্যজনক ভাবে ১২ দিন পর আসামী আটক দেখিয়ে মূল সন্দেহভাজন আসামী একই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজুরকে গ্রেফতার করলো শার্শা থানা পুলিশ।

এলাকার জনগণ আশ্বস্ত হলো। অপরাধী ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রধান আসামীকে আটকের পর তদন্তের নামে নিরীহ পুরুষ নারীদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে থানায় ৩ দিন আটকের পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার কথা স্বীকার করলেন প্রধান আসামী হাফিজুরের নিরীহ আত্মীয় স্বজনেরা।

ভুক্তভোগী আত্মীয়রা জানান মোঃ ওয়াহেদ মাধ্যমে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার চুক্তি হয় সেই মোতাবেক ৩ লাখ টাকা ঈদের দিন অগ্রীম দিলে শার্শা থানা তাদেরকে রাতে ছেড়ে দেয়।

এদিকে হেদায়েত উল্লাহসহ তার বাসার ৩জন নারী বলেন- ০২ রা জুন ২৮শে রমজানের দিন প্রধান আসামীকে ধরার জন্য তার বাসা থেকে তার স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৫) চায়না বেগম (২৫)স্বামীঃ মুক্তাসুন বিল্লাহ, হাসিনা বেগম(২৮)স্বামীঃ হাফিজুর রহমানসহ চারজন এবং যশোর চৌগাছা থেকে আরও একজন মোনাইম (৪৫)পিতাঃ শামসুর রহমান, শার্শা থানা পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

এরপর থেকে তদন্তর নামে তাদেরকে বিভিন্ন কৌশলে প্রধান আসামীর অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এভাবে দুইদিন অতিবাহিত হলো। তাদের এই হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃকততা না থাকার কারনে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু। জাল পাতলো শার্শা থানা পুলিশ। ছেড়ে দেওয়া হবে তবে অর্থের বিনিময়টার পরিমান কত হবে? চলুন জানা যাক-

হেদায়েত উল্লাহ বলেন তার বোনাই ওয়াহেদ ডুবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওসমান ও ইসরাফিলের কাছ থেকে খুনের পর সদ্য মাঠের জমি বিক্রয়ের অগ্রীম নগদ ৩ লাখ টাকা এনে শার্শা থানার সাথে সংশ্লিষ্ট দালাল ব্যক্তি সৈয়দ আলী সৈয়দা’র মাধ্যমে শার্শা থানার এসআই মামুনের নিকট নগদ ৩ লাখ টাকা দিলে থানা ঈদের দিন বিকালে ৩ জন মহিলা ও ঈদের দিন রাতে এশার নামাজের পর তাদের দুইজনকে থানা থেকে ছেয়ে দেয়।

তিনি বলেন ঈদের পর আরও ৩ লাখ টাকা শার্শা থানায় দিতে হবে ও আসামী হাফিজুরের অবস্থান যদি তারা জানতে পারে সেই তথ্য থানাকে দিতে হবে এই শর্তে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। কে এই সৈয়দ আলী সৈয়দা। তার জিম্মায় একজন খুনের আসামীসহ পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হলো, তার উপর বিনা অর্থে, তাহলে সদ্য জমি বিক্রয়ের টাকাটা কেন নিলো? কোথায় গেলো সেই টাকা?

শার্শা থানার দালাল নামে পরিচিত সৈয়দ আলী সৈয়দা। তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন- মাঝে মধ্যে থানার বিভিন্ন কাজ নাকি তিনি করে দেন বিধায় এই খুনের আসামী হাফিজুরের আত্মীয় হেদায়েত উল্লার পরিবারকে শার্শা থানার এসআই মামুন তার জিন্মায় ছেড়ে দেয়। সেই সাথে তিনি অর্থ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন, সেই সাথে তিনি বলেন হেদায়েত উল্লাহ মিথ্যা বলেছে,

কে মিথ্যা বলছে হেদায়েত উল্লাহ নাকি থানার দালাল সৈয়দ আলী সৈয়দা। এখনো ধূর্মজালে। চলুন হেদায়েত উল্লাহর বোন জামাই ওয়াহেদের সাথে কথা বলা যাক———

হেদায়েত উল্লাহর বোন জামাই ওয়াহেদের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন ওসমান ও ইস্রাফিলের কাছ থেকে হেদায়েত উল্লাহ সহ ৫জন আটকের দিনে নগদ ৩ লাখ টাকা ও পরে ঈদের পর রবিবার আরও ৩ লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংকের চেক নিয়ে আসি। তিনি বলেন তারা ভয়তে আবোল তাবোল আপনাদেরকে বলেছে।

“পুলিশ জনতা জনতাই পুলিশ” এই প্রতিবাদ্যটি যেন সত্যিকারে জনগণকে বন্ধু বানিয়ে কোন রকম অহেতুক হয়রানী মুলক কর্মকান্ড সৃষ্টি না করাই পুলিশ প্রশাসন মুল মন্ত্র হওয়া উচিত।সাথে প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়া এটাই হবে জনগনের দাবী।

আবার দেখা হবে। সে পর্যন্ত আপনারা ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং অপরাধ থেকে নিজেকে দুরে রাখবেন। আল্লাহ হাফেজ। ইফতেখার, এম কে টেলিভিশনের শেকড়ের সন্ধানে।

মো: রাসেল ইসলাম/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*