ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

ঈদকে সামনে রেখে-ঘোড়াঘাটে বঙ্গবন্ধু আদিবাসি তাঁত কারখানার কারিগররা এখন ব্যাস্ত সময় পার করছেন। সমাজে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্টির জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পল্লীতে স্থাপন করা ”বঙ্গবন্ধু আদিবাসি উন্নয়ন তাঁত কারখানা”। এই জনগোষ্টির ২০০ পরিবারের ১ হাজার মানুয়কে নিয়ে তাত কারখানার যাত্রা শুরু করেন।

সাঁওতাল, উরাও, মালো, মাহাতো, রবিদাস, মাহালী, পাহান, সিং ও কর্মকার ইত্যাদি সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার লোকের বসবাস এই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে। তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ পরিবার মোটামুটি শিক্ষিত এবং তাদের জীবন যাত্রা স্বাভাবিক ও সামাজিক। বাঁকি অর্ধেক নি¤œমানের। সমাজে তারা নারী-পুরুষ উভয়েই নিজেদের তৈরীকরা হাড়ীয়া, চোলাইমদ, তাড়ী, পুঁচুই সেবন করে থাকে। সরকারি সাহায্য সহযোগীতা পেলে তারা কোন কাজে লাগাতে পারেনা। তারা এমনি অসচেতন যে নিজের ঘর-বাড়ী-জমি বিক্রি করতে দিধা বোধ করেনা।

এরা নিজেরাই সৃষ্টিশীল, কিছু করতে আগ্রহী নয় তারা, তবে শ্রমিক হিসেবে দক্ষতা ভালো, কোন নির্দেশনা দিলে কাজটা করতে পারে তারা। তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় ভাবে শিল্পের বিকাশ ঘটাতে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু আদিবাসি তাঁত কারখানা। প্রশিক্ষন নিয়ে কারখানায় কাজ শুরু করছেন, আগামী দিনে এখানেই থাকবেন তারা। কিছুটা হলেও সুফলের পথ দেখছেন বলছেন কর্মরত আদিবাসীরা।

ঈদকে সামনে রেখে ব্যাস্ত সময় পারকরছেন কারখানার কারিগরা। আর এই শিল্প থেকে তৈরী হচ্ছে দামি লুঙ্গি, গামছা। প্রস্তুতি নিয়েছে শাড়ী, থান কাপড় তৈরীর কাজ। সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, তার এলাকার ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্টির জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে ”বঙ্গবন্ধু আদিবাসি উন্নয়ন তাঁত কারখানা” স্থাপন করায় তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সামসুল ইসলাম/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*