গাইবান্ধায় কৃষকের চোখে মুখে এখনও হতাশার ছাপ

25
0

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় কৃষকের চোখে মুখে এখনও হতাশার ছাপ। ধান চাষ করে আসল টাকাও তুলতে পারছে না কৃষক। বর্তমানে বাজার মুল্যের কারণে স্বপ্নের ধান কাটতে গিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। একজন শ্রমিক ধান কাটতে সাড়ে ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা মজুরী নিয়ে থাকে। আবার চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকরা এক বিঘা জমির ধান কাটতে নিচ্ছে ৪ হাজার টাকা। এই ধান বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে হতাশা আরও বাড়ছে কৃষকদের।

জমিতে উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে খরচই উঠছে না গাইবান্ধার কৃষকদের। বৃষ্টি ও প্রখর রোদ থাকায় এবার জমির ধান একসাথে দ্রুত পেকে গেছে। ফলে এক সাথে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে। অথচ একজন শ্রমিক দৈনিক মজুরি হাঁকছেন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। বাজারে অসহায় কৃষক তার সোনার ধান বিক্রি করছেন ফড়িয়া দালালদের দেয়া দরে। কারণ মৌসুম সময়ে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে দরিদ্র কৃষকের পক্ষে ধান মজুদ করে রাখা কোনক্রমেই সম্ভব হয় না। অপেক্ষাকৃত কম জমির মালিক ও কৃষকদের ঘরে উদ্বৃত্ত থাকছে না কোন ধান। এক বিঘায় ধান চাষ করতে জমি চাষ, তেল, সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরীসহ খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আর এক বিঘায় ধান পাছেন ১৮ থেকে ২৪ মণ ধান ।

ধানের ন্যায্য দামের দাবীতে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের দেয়া দামে হাটে বসে চাষী পর্যায়ে ধান কেনা হলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটতো। কিন্তু সেটা সময়মত না হলে সংসার খরচ, ধারদেনা পরিশোধের চাপে কৃষক ধান ধরে রাখতে পারবেন না। তাদের অভিযোগ, খাদ্য দপ্তরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা, ব্যাবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট এই পরিস্থিতি তৈরী করেছে। কৃষকদের রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যতে তারা ধান চাষে আগ্রহ হারাবে।

গাইবান্ধার ১১টি খাদ্যগুদামে গেল ১৮ মে থেকে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ধান রয়েছে ৩ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ২৫ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন, আতব চাল ২ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন এবং গম ৩৯৫ মেট্রিক টন। ১১টি খাদ্যগুদোমে ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু মজুদ রয়েছে ২৫ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন। ফাঁকা জায়গা রয়েছে অর্ধেকেরও কম স্থান। এনিয়ে জায়গা সংকুলনের অভাব থাকার আশংকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিজিডি, ভিজিএফ এর মালামাল বের হলে জায়গা সংকুলনের অভাব থাকবে না। মাঠভরা ধান দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলেও সরকারীভাবে দ্রুত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ানো হলে তাদের ঘাম আর শ্রমের এই ফল তারা ভোগ করতে পারবেন না।

খালেদ হোসেন/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here