ডেক্স রির্পোট:

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সরকারপাড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক শিক্ষক প্রবীন সাংবাদিক, এবং লেখক, ছড়াকার, প্রবন্ধকার আবু তাহের বার্ধক্যজনিত কারণে পৌর শহরের তেলিপট্টি মহল্লায় তার নিজ বাসভবনে রবিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। এসময় তিনি স্ত্রী ২ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

এই প্রতিভাবান নির্ভীক সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর রাতে পেয়ে , কবি, আবৃত্তিকার, এবং এমকে টেলিভিশনের চেয়্যামান হাবিব ইফতেখার গভীরভাবে শোক প্রকাশ করে বলেন- দেশ স্বাধীনের পর থেকে পার্বতীপুরের অবস্থা খুবেই নাজুক ছিল। তখন পার্বতীপুর অঞ্চলে ক্ষমতার লড়াই চলছিল।যে যত লুঠপাট, জায়গা দখল, হুমকী ধমকি ইত্যাদি করতো পারতো সে তখন সেয়ানা। তাদের দাপটে ভাল কাজ করা দুস্কর ছিল। এসবের প্রতিবাদ করতে তখন প্রথম সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে যে ক’জন কলম যোদ্ধা ছিলেন তাদের মধ্য অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব প্রফেসর উর রহমান। তিনি পার্বতীপুরের খুঁজতে শুরু করেন কলম যোদ্ধাদের। সেই  সময় যাদের মধ্যে নির্ভীক ভাবে এগিয়ে এলেন তারি ছাত্র এই প্রতিভাবান মানুষটি।আবু তাহের। সাংবাদিক তাহের আলোচনায় বলেছিলেন মনসুর স্যার এই অঞ্চলের অনেক কলম যোদ্ধা তৈরী করেছেন। ওনাকে না পেলে সাংবাদিক ও লেখক আবু তাহেরের জন্ম হতো না। মনসুর স্যারসহ পর্বতীপুর আমরাই প্রথম প্রেস ক্লাবের তৈরীর পরিকল্পনা করি। স্যার প্রস্থাব দিলেন কবি সাহিত্যিকসহ সাংবাদিকরা মিলে প্রেসক্লাব তৈরী হোক। কারণ প্রেসক্লাব হবে কলম যোদ্ধাদের জন্য।স্যার সেই সময়ের পার্বতীপুরের প্রথমসারির একজন সাংবাদিক শুধু নয় কবি, সাহিত্যিক, কলামিষ্ট যা দেশের প্রথমসারির পত্রিকায় তিনি কাজ করতেন। দৈনিক আজাদ, দৈনিক দেশ, সংবাদ ইত্যাদি পত্রিকায় যখন তার লেখা দেখতাম তখন আমার মনে দারুন ভাবে বিদ্যুৎ চমকে যেতো। তার লেখা পড়তাম মনোযোগ দিয়ে।পার্বতীপুরে যখন জাতীয় সংবাদপত্র প্রায় আসতই না এলে ওই পত্রিকা সাতদিন ধরে পড়তাম। এমন অবস্থা।

কথা প্রসংগে তিনি এম কে টেলিভিশন চেয়ারম্যানকে আরো বলেন- পরবর্তীতে আপনার ছাত্রজীবনের লেখা পড়তাম সম্ভবত ৮৮ – ৮৯ এর দিকে।তখন থেকেই আপনাকে আমার মনে হতো কিছু একটা বিস্ফরন ঘটাবেন। আপনার কণ্ঠে যদি আমার কবিতা আবৃত্তি শুনতে পেতাম ধন্য হতাম। ভাবতে ভাবতে সেই চমক দেরীতে হলেও দেখিয়ে দিলেন আপনি প্রথম পার্বতীপুরের সাংবাদিকতার দ্বার নতুন ভাবে উন্মোচন করলেন ইলেকট্রেনিক সাংবাদিক হিসেবে।এখানে যে টেলিভিশন চ্যানেল হবে পার্বতীপুরবাসী কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু আপনি নিজের গতিতে আজ চ্যানেলটি সুন্দর ভাবে এগিয়ে নিয়েছেন। পুরাতন বাজারের কয়েল আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে আপনার কাছে। আমি আজ অসুস্থ, চলাফিরা খুব কষ্টকর, কিন্তু আমার কাজগুলো নিয়ে ভাবছি। কেউ আমার খোঁজ খবর নেয় না। মাঝে মধ্যে আপনারসহ ক’জনের রিং পাই, তখন ভাল লাগে। এছাড়া কোন সাংবাদিক লেখক কবিরা জানতে চায়না এই পঙ্গু সাংবাদিক তাহের আছে না মরে গেছে।আমি কি করিনি এই প্রেসক্লাবকে নিয়ে। কারা এসে আজ সাংবাদিক সেজে কামড়া কামড়ি করছে।জানি, জানি সব জানি কিন্তু আমার হাত এখনো চলে, আপনি আমাকে সাহায্য করবেন ? কারণ পার্বতীপুরের সাংবাদিকদের আমার চেনা শেষ।কথা শেষ না হতেই কেঁদে ফেললেন। আর ফুঁপে ফূঁপে বললেন যাদের জন্য এত কিছু করেছি, তাদের লেখা শিখিয়েছি, সাংবাদিকতা শিখিয়েছি তারও আমাকে এড়িয়ে চলে। এসবো একদিন হিসেব হবে।

এব্যাপারে সাংবাদিক আবু তাহেরের কলেজ শিক্ষকসহ কলমযোদ্ধার গুরু বুদ্ধিজীবি, গবেষক সব্যসাচী লেখক, এক কালের নির্ভীক সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব প্রফেসর উর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন। সাংবাদিক আবু তাহেরের কথা বলে শেষ করা যাবে না। ছাত্রজীবন থেকে সে আমার কাছে লেখা নিয়ে আসতো। তার উদ্দোম ছিল প্রবল। অর্থের দিকে না তাকিয়ে সে নিজেই সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক করবে বলে আমার কাছে এসে বলে- স্যার সাহিত্য পত্রিকার নাম দিয়েছি “চিৎকার”। এরপর আরো ক’জনকে নিয়ে কিছু সংখ্যা বের করতে পেরেছিল। তার লেখাগুলোতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভাষা প্রয়োগ করতো বেশী।তেজি ছেলে ছিলো তাহের।তার হঠাৎ শাররীক অসুস্থতা না হলে এই অঙ্গনে আরো অবদান রাখতে পারতো।সে বিছানায় পড়ার আগে আমার কাছে এসে লেখা প্রকাশ নিয়ে কথা বললো। কিন্তু হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার সেদিনে কথাগুলো মনে পড়ে গেল।তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

এদিকে পার্বতীপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক মানববার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং পার্বতীপুর পৌর মেয়র আলহাজ্ব এজেডএম মেনহাজুল হক এক শোক বার্তায় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও পার্বতীপুরে কর্মরত সকল সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

(ভিডিওতে বিস্তারিত দেখুন, লাইক/শেয়ার এবং সাবস্ক্রাইব করুন)

www.mktelevision.net/হাবিব ইফতেখার/শাহিনুর/এস রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*