ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলার ইতিহাসে যতবার ছাত্ররা মহৎ উদ্যোগে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে ততবার জাতি উৎজীবিত হয়ে উঠেছে। তেমনি সমাজের তৃর্ণমূল মানুষদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত উদ্যোমী কিছু ছাত্র। আজ তারা একত্রিত হয়ে ঊষা নামক একটি সংগঠনের মাধ্যমে তাদের এই মহতি উদ্দ্যেগ নিয়ে দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে হতদরিদ্র ও দুঃস্থ এতিম শিশুদের পাশে গিয়ে তাদের নিজেদের নাস্তার পয়সা বাঁচিয়ে অর্থ সংগ্রহ এবং পরিবার পরিজনদের সহযোগিতায় এই শীতমৌসুমে শীতার্থদের মঝে কম্বল বিতরণ করছে। প্রথমে তারা ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ ছিল। আজ তারা এই মহতি উদ্দ্যেগে নিজেরাই বেগবান হয়ে ছুটিতে বেরিয়ে পড়েছে শীত প্রধান অঞ্চলে, অসহায় মানুষদের নিজেরাই খুঁজে নিয়ে নিজ হাতে প্রদান করছে কম্বল। তেমনি এবার তারা বেছে নিয়েছে উত্তারালের দিনাজপুরের পার্বতীপুরকে। নিজেরাই নির্ধারণ করে বের করেছে পার্বতীপুরের প্রথম দুঃস্থ্য এতিমখানা। শহরের প্রাণকেন্দ্রে নতুন বাজারের জনতা ব্যাংকের পাশে সেই ঐতিহ্যবাহী পার্বতীপুর দুঃস্থ এতিমখানা বিদ্যালয়, এটি একটি বে-সরকারী এতিমখানা। স্থাপিত- ১৯৮৪ সাল। রেজিষ্টার ভূক্ত এবং একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত এতিমখানাটিতে ১৫ জন দুঃস্থ্য ও এতিমদের আবাসস্থল। এখানে ৫ বছরের শিশুরা প্রতিবছরে ভর্তি হয় ক্রমান্বয় প্রতিবছরে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে নিজেদের কর্মস্থলে চলে যায়। এই দীর্ঘসময় থাকাকালীন অবস্থায় এতিমখানার তহবিল থেকে তাদের যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
প্রফেসর আলহাজ্জ্ব মনসুর উর রহমান। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুধু নন, একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক এবং গবেষক। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই পার্বতীপুরকে নিয়ে যে ক’জন উন্নয়নমূলক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন বা আছেন, তাদের একজন। তিনিও যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সকলকে নিয়ে একটি স্ব-নির্ভরশীল সামাজিক বন্ধনের মধ্যদিয়ে বঞ্চিতদের জন্য ভাল কিছু করার। প্রথম প্রথম অনেকে এগিয়ে এলো। কিন্তু এসব সামাজিক কাজ যে ব্যবসা নয়, নিজের তহবিল থেকে ব্যায় করতে হয় তাই দেখে পরে সকলেই পিছু টান দেন। কিন্তু না প্রফেসর মনসুর উর রহমান কঠিন ধর্য্য ও একাগ্রতা নিয়ে রইলেন। তা দেখে তার শ্বশুর তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর প্রিয় মানুষ ফুটবল জগতের চীনের প্রাচীর খ্যাত ফুটবলার মহিউদ্দিন আহম্মেদ পাশে দাঁড়ালেন। তাঁর মৃত্যুর পর অনেকেই এতিমখানাকে নিয়ে সমস্য সৃষ্টি করতে চায়। এভাবে অনেক কষ্টে আজ এই এতিমখানাটি নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে।
তারি রূপরেখায় অজপাড়াগায়ের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানরা এখানকার ছাত্র হয়ে ভর্তি হয়েছিল তারা আজ সমাজে নিজ নিজ স্থান করে নিয়েছে। কোথায় নেই এর ছাত্ররা-দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোতে, ঢাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে, বিভিন্ন এলাকায় প্রাইমারী শিক্ষক, এনজিও মালিক পর্যন্ত হতে পেরেছে সেই হতদরিদ্র পরিবারের তৃণমূল শিশুরা।
এসব তথ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সেই উদ্যোমী ঊষা, দলবেঁধে এসে নিজ হাতে বিতরণ করলো ১৫টি কম্বল, এই এতিমখানার ছাত্রদের মাঝে।
এসময় উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পার্বতীপুর দুঃস্থ এতিমখানার পরিচালক প্রফেসর মনসুর উর রহমান ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত ছাত্রদের সমন্বয় সংগঠন উষা মহতি উদ্দ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন- ……….,

এসময় এতিমখানার শিশুদের পাশে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, সাহিত্যিক এবং এম,কে টেলিভিশন ডট নেটের চেয়ারম্যান হাবিব ইফতেখার।

এই মহতি এবং উদ্যোমী ছাত্ররা ও দুঃখ করে বলে- তাদের একাজেও বাঁধা আসে।……

তবে কেন ?
আজ যারা সৎ ও নিষ্ঠার সাথে সামাজিক কাজ করছে তাদের পিছনে কালো হাত টেনে ধরে কেন ? তারা সহযোগীতা করা তো দুরের কথা সমাজে ভাল কাজ যেন না হয় সেই ব্যবস্থা করে। এদের জন্য কি করা দরকার? অবশ্যই করণীয় আছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতে হবে। ঘৃণা করতে হবে। যাতে তারা বুঝতে পারে একটি সৃজনশীল সামাজিক কাজে কত কষ্ট মেধা ব্যয় করে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়। সমাজের সকল সাধারণ ও সৎ ব্যক্তিরা এটিই প্রত্যাশা করেন।

(ভিডিওতে বিস্তারিত দেখুন, লাইক/শেয়ার এবং সাবস্ক্রাইব করুন)

mktelevision.net/ডেস্ক রিপোর্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*