df99041384c2de50c4f8bb7d5082fee3-253779783_o
ডেস্ক রিপোর্ট :
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আতাউর রহমান মুজিব ওরফে তুহিন সরকার (৩২) নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৩ কেজি সোনা উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। বুধবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ওই যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধারকৃত সোনার বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। স্থানীয় ভাবে পরিচিত তুহিন সরকার নীলফামারীর সৈয়দপুরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের সরকার ট্রাভেলস’র মালিক। সে শহরের শহীদ আমিনুল হক সড়কের নতুন বাবুপাড়ায় তোফাজ্জল হোসাইন সরকারের পুত্র।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার লুৎফর রহমান জানান, আতাউর রহমান নামের ওই যাত্রী অসুস্থতার ভান করে বিমানবন্দরে হুইল চেয়ার ব্যবহার করছিলেন। সিঙ্গাপুর থেকে এসকিউ ৪৪৬ ফ্লাইটে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজালালে আসেন আতাউর।
এসময় তার কোমরের বেল্ট ও শরীরের বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি করে ২৩ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে সোনার বার ও বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার রয়েছে।

কোমরে বিশেষ কায়দায় রাখা ছিল ২৩ কেজি সোনা। এই ভার বহন করা সম্ভব ছিল না। হাঁটাহাঁটি করতে কষ্ট হবে। তাই রোগীর বেশ ধরেন ওই যাত্রী। এ জন্য তিনি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে ওঠেন হুইলচেয়ারে করে। কিন্তু বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রিন চ্যানেলের সামনে শুল্ক কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েন আতাউর রহমান মুজিব ওরফে তুহিন সরকার।
শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ধরা পড়ার সমFB_IMG_1472107342711য় অসুস্থতার ভান করেছিলেন আতাউর ওরফে তুহিন সরকার। তবে যখন তাঁর কাছ ২২৫টি সোনার বার জব্দ করা হয়, তখন জেরা করা হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকেন তিনি। এরপরও অসুস্থতা বোঝাতে বেশ কিছু কাগজ দেখাতে থাকেন শুল্ক কর্মকর্তাদের।
আতাউর রহমান মুজিবকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দলের প্রধান ও সহকারী কমিশনার এ এইচ এম আহসানুল কবির। তিনি বলেন, আতাউর রহমান মুজিবের শরীরে কোনো রোগের লক্ষণ ছিল না। যেহেতু ২৩ কেজি সোনা বহন করতে তাঁর কষ্ট হবে, হাঁটাচলায় সন্দেহ হতে পারে, তাই অন্য কৌশল বেছে নেন। রোগীর বেশ ধরেন। ভাবেন, হুইলচেয়ারে বসলে রোগীর হয়তো জেরা করা হবে না। উল্টো বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমবেদনা পাওয়া যাবে। এতে বিমানবন্দর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এসব কারণে রোগীর বেশ ধরেন মজিব। কোমরে সোনার বার রাখতে বিশেষভাবে তৈরি মজিবের বেল্টটি। নাইলনের তৈরি বেল্টটি প্রায় ছয় ইঞ্চি চওড়া। এটি লম্বায় প্রায় তিন ফুট। এই বেল্টেই রাখা ছিল ১০০ গ্রাম ওজনের ২২৫টি সোনার বার। তা ছাড়া আতাউর রহমান মুজিবের প্যান্টের ভেতর বেশ কিছু সোনার গয়নাও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ২৩ কেজি সোনার বর্তমান মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এ ঘটনায় আতাউর রহমান মুজিবকে আসামি করে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দর থানায় মামলা করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

সহকারী কমিশনার এ এইচ এম আহসানুল কবির বলেন, জব্দ হওয়া সোনার মালিক নিজে নন বলে দাবি করেন আতাউর রহমান মুজিব । তাঁকে বহন করতে দেওয়া হয়েছিল। সোনার প্রকৃত মালিক সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেননি তিনি। তবে মজিবের পাসপোর্ট থেকে জানা গেছে, তিনি প্রায়ই সিঙ্গাপুর ও নেপাল যাতায়াত করছেন। সৈয়দপুরে নিজের ফোন-ফ্যাক্সর দোকান রয়েছে বলে জানান তুহিন সরকার।

mktelevision.net/ডেস্ক/ছবি সংগ্রহিত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*