Home নির্বাচিত খবর ভ্যান-রিক্সসা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ালেন পাঁচবিবি থানা পুলিশ।

ভ্যান-রিক্সসা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ালেন পাঁচবিবি থানা পুলিশ।

331
0

পাঁচবিবি সংবাদদাতা :
পুলিশের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারনা থাকলেও আসলেই যে পুলিশ, জনগনের বন্ধু হতে পারে তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানা পুলিশ। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ছাড়াও স্থানীয় ১২১ জন মাদক ব্যবসায়ীর অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথ দেখালেন এই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুল ইসলাম। ব্যক্তিগত অর্থ ছাড়াও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ভ্যান-রিকসা, দোকান ও সেলাই মেশিন প্রদান করে সৎ পথে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। আর এসব সহায়তা পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেলেন তারা। সীমান্ত ঘেঁষা জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা। সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় মাদকসেবি ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পাঁচবিবি অতি পরিচিত একটি নাম। ফলে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে দেদারছে দেশে পাচার করছে ফেন্সিডিল, মদ, ইয়াবা, হেরোইন সহ মরণ নেশা মাদক। কিছুদিন আগেও পাঁচবিবির সর্বত্রই ছিল ভারতীয় মাদকের ছড়াছড়ি। মাদকের ফলে দেশ, জাতি ও যুব সমাজ যখন ধ্বংসের পথে, ঠিক তখনিই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুল ইসলাম ১৪৮ বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের এই উপজেলাকে মাদক ও বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে গ্রহণ করেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মসুচি। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌর সভার প্রতিটি ওয়াডে গড়ে তোলেন মাদক প্রতিরোধ কমিটি এবং কমিউনিটিং পুলিশিং কমিটি সঙ্গে নেন থানার অন্য পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্য ছাড়াও স্থানিয় সমাজপতিদের। শুরু করেন মাদক ব্যবসায়িদের নামের তালিকা তৈরীর কাজ। মাদক ব্যবসায়িদের সহাযতা উপকরণ দিয়ে সৎ পথে জীবন-যাপনের জন্য অর্থের প্রয়োজন, আর একারনে ঢাকার এক দল তারকা শিল্পীদের নিয়ে কনসার্টেরও আয়োজন করেন ওসি আশরাফুল। কনসার্টের অর্থ, নিজের অর্থ ছাড়াও বিত্তবানদের সহায়তায় এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কিনে দেন ভ্যান-রিকসা, দোকান ও সেলাই মেশিন। আর এসবের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পথ পেয়ে অন্ধকারের জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এসব মাদক ব্যবসায়িরা।
পৌর সভার দানেজপুর কলেজ পাড়ার ভোলা মিয়া বলেন আগে আমি নিজে নেশা করতাম এবং স্বামী-স্ত্রী দু;জনেই মাদকের ব্যবসা করতাম। একদিন ওসি আমাদের থানায় ডাকে এবং বলে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেন আপনার কি দরকার বলেন, তখন আমাকে চিল্লায় পাঠান পরে একটা দোকান করে দেন এখন আমরা আর মাদক বেচিনা দোকান করে খাই। গোপালপুর মহল্লার মতির স্ত্রী আকলিমা বলেন আমার স্বামী আগে মাদক ব্যবসা করত একারনে সমাজের কেউ আমাদের সঙ্গে মিশতনা ভারও বাসতনা ওসি একটা সেলাই মেশিন দেয়, এই দিয়েই সংসার চালাই। তুরিপট্টির আলেক বলেন, এ ব্যবসায় সহজেই অনেক টাকা আয় করা যায়। আবার ঝামেলাও কম নয়। থানা পুলিশের ধর-পাকড় মামলা কোর্ট কাচারী করতেও যায় টাকা। ওসি সাহেব আমাকে ভ্যান কিনে দেয় এখন ভ্যান চালায়। আলেক আরো বলেন সৎ পথে ফিরে ভাল লাগছে, সমাজের চোখেও ভাল।

mktelevision.net/আকতার হোসেন বকুল/ইফতেখার/মোস্তাফিজুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here