333কুমিল্লা : মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে কটুক্তি করায় রোববার কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার উত্তর হাওলা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৭ম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে পাঠদানকালে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের কটুক্তিমূলক মন্তব্য করে। বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সপ্তম শ্রেণির শেষ ঘন্টায় বাংলা বিষয়ে পাঠদানকালে হিন্দু শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী সাহা শিক্ষার্থীদের মাঝে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের কটুক্তিমূলক কথা বলে। বিষয়টি জানাজানি হলে, পরদিন শুক্রবার থেকে এলাকাবাসী ওই শিক্ষিকার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ ঘটনায় শনিবার বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে। ওইদিন ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক বরাবরে এ বিষয়ে অভিযোগ করে। পরে অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হবে বলে প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির আশ্বাসের ভিত্তিতে ওইদিন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করে। রবিবার শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। উত্তাল এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক পরিচালনা পর্ষদ ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে। খবর পেয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা পুলিশ সার্কেল এএসপি ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান পান্না, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র ভট্ট, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ তৈয়ব হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মফিজুর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের প্রতিনিধি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম রতন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান হিরনসহ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবস্থার আলোকে সঞ্চিতার যথাযথ বিচার করা হবে বলে আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জের ইউএনও ইসরাত জাহান পান্না জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সমন্বয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবারই এ কমিটি বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ৫ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে গঠিত কমিটি তাদের চুড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র ভট্ট জানান, সঞ্চিতা রানী সাহাকে আমরা ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি। গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে তার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*