Home নির্বাচিত খবর রাজকোষ চুরির অর্থ ফিলিপাইনে নিয়েছে দুই চীনা নাগরিক?

রাজকোষ চুরির অর্থ ফিলিপাইনে নিয়েছে দুই চীনা নাগরিক?

398
0

মুখ খুললেন কেলেঙ্কারিতে জড়িত ‘মূল হোতা’ : ৬৯ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা

ময়ূরকণ্ঠী ডেস্ক রিপোর্ট :
অবশেষে সিনেট রিবন কমিটিতে মুখ খুললেন বাংলাদেশের রাজকোষ কেলেঙ্কারিতে প্রধান সন্দেহভাজন কিম ওং। তিনি বললেন, বাংলাদেশের অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়েছে দু’জন চীনা নাগরিক শুহুয়া গাও এবং ডিং ঝিজি। এর আগে নামসহ তাদের পাসেপোর্টের কপি তিনি একটি ‘সিলড’ বা মুখবন্ধ খামে সিনেট ব্লু রিবন কমিটিতে জমা দেয়ার কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সিনেট কমিটির শুনানিতে হাজির হন তিনি। এতে তিনি বলেন, যে ভুয়া ডকুমেন্ট ব্যবহার করে এই টাকা ফিলিপাইনে নেয়া হয়েছে তাতে আমার কিছু করার ছিল না। ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার কোথা থেকে এসেছে এ বিষয়ে আমি জানি না। দ্বিতীয়ত, ফিলিপাইনে এই ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়ে এসেছেন ওই দুই চীনা ব্যবসায়ী দু’জন। তাদের একজন ফিলিপাইনে মাঝে মধ্যেই আসা যাওয়া করেছেন। তিনি একজন জাঙ্কেট এজেন্ট। তিনি আরও বলেন, আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখার বরখাস্তকৃত ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতো ভুয়া এ্যাকাউন্ট খুলেছেন চুরি করা ওই অর্থ নেয়ার জন্য এবং তা উত্তোলনের জন্য। তবে এর আগে মায়া দেগুইতো বলেছিলেন, কিম ওং মাত্র একজন বিদেশীকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার কাছে একটি এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য। এ বিষয়ে তিনি দেগুইতোর সহায়তা চাওয়া হয়। সেখানে দেগুইতো দু’জন বিদেশীর কথা বলেন নি। দেগুইতো আরও বলেছেন, কিম ওং-ই তার কাছে ৫ জনকে পাঠায় এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য। পরে এসব এ্যাকাউন্ট ধারীরাই ওই চুরি করা অর্থ পায়। এ বিষয়ে কিম ওং বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা ছাড়ের সকল দায় দায়িত্ব মায়া সান্তোস দেগুইতোর। ৬৯ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা : বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেটের শুনানিতে সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী কিম ওং ৪৬ লাখ ৩০ লাখ ডলার ফেরত দিতে রাজি হয়েছেন। পাশাপাশি সোলায়েরে রিসোর্ট ও ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ মি. ডিং নামে এক ব্যক্তির বাজেয়াপ্তকৃত এ্যাকাউন্টের অর্থ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সেখানে রয়েছে মোট প্রায় ২২ লাখ ৭০ লাখ ডলার। এ নিয়ে মোট ৬৯ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি ও ফিলিপাইনের পত্রিকা এবিএস-সিবিএন নিউজ। ভুয়া দুই এ্যাকাউন্টধারী চিহ্নিত : বাংলাদেশের রাজকোষ চুরিতে যেসব কল্পিত নাম ব্যবহার করে এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল ব্যাংকে তার মধ্যে দু’জনকে চিহ্নিত করেছে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)। ২৮ মার্চ ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের কাছে নিজেদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে আরসিবিসি। তাতে বেরিয়ে এসেছে ওই দুইজনের পরিচয়। বলা হয়েছে, ওই দু’জনের মধ্যে একজন আরসিবিসির রিজার্ভ অফিসার। তার নাম আদ্রিয়ান রানাস ইউজুইকো। তার ছবি ব্যবহার করে জেসি ক্রিস্টোফার ম্যাগনো ল্যাগ্রোসাসের নামে এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে যে ডকুমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে তাতে লেখা রয়েছে ‘দ্য বিআইআর আইডি (টিআইএন নং ৭৫৫-২৬৫-১২৩-০০০)। অন্যদিকে মাইকেল ফ্রান্সিকো ক্রুজের নামে যে এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। তবে এক্ষেত্রে যার ছবি ব্যবহার করা হযেছে কমিটি নিশ্চিত হতে পারে নি যে, তার অগোচরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা। তাই তার নাম প্রকাশ করা হয় নি। আরসিবিসির রিপোর্টে অর্থ পাচার বিরোধী আইনজীবী রোনাল্ড অ্যালান আবারকুয়েজ বলেছেন, আমরা আদ্রিয়ান রানাস ইউজুইকোর বিষয়ে আরও তদন্ত করছি। ব্যাংকের জুপিটার শাখার বরখাস্তকৃত ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতোর সঙ্গে তিনি তার নিজের বাড়িতে যে বৈঠক করেছিলেন, বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন সে বিষয়ে আমরা আরও খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই বৈঠকে দেগুইতো অর্থ দেয়ার প্রস্তাব করেন। উল্লেখ্য, ল্যাগ্রোসার নামে যে এ্যাকাউন্ট খোলা হয় তাতে জমা পড়েছে ৩ কোটি ডলার। গত ৫ ফেব্র“য়ারি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে জমা থাকা বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকিং করে চুরি করা হয়। তার সবচেয়ে বড় অংক জমা হয় এই এ্যাকাউন্টে। অন্যদিকে মাইকেল ক্রুজের নামে যে এ্যাকাউন্ট তাতে জমা পড়ে ৬০ লাখ ডলার। আগেই আরসিবিসি ও কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল যে, ল্যাগ্রোসা ও ক্রুজের নামে যে এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে তাতে ব্যবহার করা হয়েছে কল্পিত ও মিথ্যা ঠিকানা। আরসিবিসির জুপিটার শাখা থেকে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে দেখা গেছে ক্রুজের বাসা দেখানো হয়েছে ২৬১ বানাবা স্ট্রিট, ফোর্বস পার্ক, মাকাতি সিটি। অন্যদিকে ল্যাগ্রোসাসের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ৪৩৬ সান জোয়াকিন স্ট্রিট, সান জোসে ভিলেজ, আলাবাং, মানতিনলুপা সিটি। আরও দু’টি কল্পিত নামে এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। তার একটি আলফ্রেড সান্তোস ভারগারা, অন্যটি এনরিকো টিওডোরো ভাসকুয়েজের নামে। যথাক্রমে এ দু’টি এ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ২ কোটি ও ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ল্যাগ্রোসা, ক্রুজ, ভারগারা ও ভাসকুয়েজের নামে এ এ্যাকাউন্টগুলো শুরুতে ৫০০ ডলার দিয়ে খোলা হয় ২০১৫ সালের ১৫ মে। বাংলাদেশী টাকা চুরি করে জমা হওয়ার আগে পর্যন্ত এসব এ্যাকাউন্টে কোনই লেনদেন হয়নি।

mktelevision.net/ময়ূরকণ্ঠী ডেস্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here