02

ময়ূরকণ্ঠী ডেস্ক:

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক জায়গায় আগের রাতেই বাক্স ভরে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হচ্ছে। আজ সকালে ‘জিয়া পরিষদ’-এর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির  নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।  শতাধিক ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের  চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা আলমগীর বলেন, অতীতে কখনো দেখেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীহীন নির্বাচন হয়েছে? ইউপি নির্বাচনের আগের দিন গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে। আমি কালকে রাতে খবর পেলাম সেখানে আগের রাতেই সমস্ত ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছে। এই যে প্রহসনের নির্বাচন তারা  করছে। এটাকে আজকাল অনেকে আখ্যা দিচ্ছেন, দিস ইজ দ্য ইলেকশন প্রজেক্ট। এই প্রকল্পের নাম করে নির্বাচন নির্বাচন  দেখিয়ে তারা আসলে জনগণ ও বিশ্ববাসীকে  বোকা বানাতে চায়।  প্রহসন  জেনেও বিএনপির ভোটে অংশ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। আমরা কি করতে পারি? আমরা ে তা বিপ্লবী দল নই  যে অন্যভাবে কিছু করব। আমরা গণতান্ত্রিক দল। আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সেই নির্বাচনে আমরা অংশ নিচ্ছি। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক দল বলে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে  যেভাবে আগ্রহের সঙ্গে এইসব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, একইসঙ্গে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে ফলাফল ছিনিয়ে নিচ্ছে তাতে সরকার  যে তথাকথিত মুখোশ পরে আছে, তা উন্মোচিত হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনোই ‘সুষ্ঠু’ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে  চেয়ারপারসনকে আরও ক্ষমতা দিয়ে  ক্ষমতা  কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে বলে  যে প্রশ্ন উঠেছে তা নাকচ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করা হয়নি। আপনাকে বুঝতে হবে এটা কিন্তু ডেমোক্রেটিক সেন্টারাইলেজশন বলে একটা কথা আছে। কাউন্সিলই গণতান্ত্রিকভাবে  দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা দিয়েছে। এমন না যে তিনি নিজেই ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছেন। কাউন্সিলই তাকে ক্ষমতা দিয়েছে। বিএনপি একটা বিশাল রাজনৈতিক দল। সেই রাজনৈতিক দল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কাউন্সিল মনে করেছে  যে, এটাই উপযুক্ত,  সেজন্য তারা (কাউন্সিলররা) এটা করেছে। এ সময় জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদ, অধ্যাপক ইমতিয়াজ  হোসেন, আবদুল কুদ্দুস, শফিকুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

mktelevision.net/ইফতেখার/আল মামুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*