শুরুতেই চমক, আয়ারল্যান্ড’দের জমিনে ওমানের হানা

418
0

ময়ূরকণ্ঠী খেলার ডেস্ক :

প্রথম পর্বের প্রথম দিনই স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দিল আফগানিস্তান। হল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়কে যদি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখেন, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওমানের জয়টা অবশ্যই অঘটন! স্কটল্যান্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম যখন খেলেছে, তখন আফগানিস্তান ক্রিকেট খেলে—এই তথ্যেই তো কারও বিশ্বাস ছিল না। আয়ারল্যান্ড বেশ অনেক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিত। ২০০৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তান, বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়েকে হারানো দলটি পরের দুটো বিশ্বকাপেও নিজেদের ‘কিলার’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সময় বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ—বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলুড়ে দেশই হেরে গেছে আয়ারল্যান্ডের কাছে। মাত্র এক বছর আগেই অস্ট্রেলিয়া- নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বিস্ময়ের নাম ছিল আয়ারল্যান্ড। রান গড়ে পিছিয়ে পড়ার দুর্ভাগ্যটা সঙ্গী না হলে আয়ারল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা যেত। কিন্তু সেই আয়ারল্যান্ডই কিনা হেরে গেল ওমানের কাছে! বিশ্ব ক্রিকেটে হল্যান্ডের পথচলাটা অনেক পুরোনোই। ১৯৬৬ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ পাওয়ার পর তারা এখনো তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পা রাখা হল্যান্ড ২০১০ সালে বাংলাদেশকে একটি বৃষ্টি- বিঘ্নিত ম্যাচে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল। প্রথমবারের মতো উঠে এসেছিল আইসিসির ওডিআই র্যাঙ্কিং-তালিকায়। গত টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই তো হল্যান্ড প্রথম পর্বের বাধা ডিঙিয়ে সুপার টেনে পৌঁছে বিস্ময় জাগিয়েছিল ইংল্যান্ডকে একটি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়ে। ২০০৯ টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ড হেরেছিল এই হল্যান্ডের কাছে। টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে দারুণ আকর্ষণীয় একটি দল হয়ে ওঠার প্রায় সব অনুষঙ্গ কিন্তু আছে কমলার সুবাস ছড়ানো এই দলটির। এই তো কিছুদিন আগেই এশিয়া কাপের মূল প্রতিযোগিতায় খেলল আরব আমিরাত। ব্যাপারটা ছিল একটা অঘটনই। যে আফগানিস্তানকে এশিয়া কাপের মূল পর্বে দেখছিল সবাই, তাদেরই হারিয়ে নিজেদের ওপরে তুলে আরব আমিরাত কিন্তু টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বাইরের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারটাই সামনে নিয়ে আসছে। আরব আমিরাত কিন্তু হল্যান্ডের মতো দলকে পেছনে ফেলে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে! একটা সময় টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বাইরে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে ধরা হতো কেনিয়াকে। কিন্তু সেই কেনিয়া নিজেদের দোষেই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ২০১১ সালে শেষবারের মতো আইসিসির কোনো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণ দেখা গেলেও গত পাঁচ বছর ধরে দৃশ্যপটে নেই তারা। টেস্টের বাইরে বৈশ্বিক পরিসরে আরব আমিরাত, ওমান, নেপালের মতো দেশগুলোর উঠে আসার গতি কিন্তু ইঙ্গিত দেয়, হল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর অবস্থান কিন্তু এখন আগের মতো নেই। কেনিয়ার হারিয়ে যাওয়া থেকে এই দেশগুলো কতটুকু শিক্ষা নেবে— সেটার ওপরই কিন্তু নির্ভর করছে অনেক কিছু। ক্রিকেট এমনিতেই হাতে গোনা কয়েকটি দেশের খেলা। এর মধ্যে ওমান-আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর উঠে আসা সুখবর সন্দেহ নেই। কিন্তু ‘ল্যান্ড’দেরও দরকার ক্রিকেটটাকে আরও বর্ণিল করে রাখতে।
mktelevision.net/নাভিদ মুসতাসিম ঋষু/ইফতেখার/আল মামুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here