ময়ূরকণ্ঠী খেলার ডেস্ক :

খেলার টিকিট বিক্রিতে হাঙ্গামা এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের লড়াই। তা-ও আবার ফাইনাল, ঘরের মাঠে। এই লড়াই মাঠে থেকে দেখার সুযোগ কেউ কি হাতছাড়া করতে চায়? তাই ফাইনাল খেলা শুরুর দুই দিন আগে গত শুক্রবার দুপুরের পর থেকে মিরপুর ১০ নম্বরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) সামনে ছিল টিকিট ক্রেতাদের লম্বা লাইন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে ব্যাংকে টিকিট বিক্রি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু দোতলায় ব্যাংকের সদর দরজা আর খোলে না। দরজা বন্ধ দেখে টিকিটপ্রত্যাশীদের হইচই। বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় ব্যাংক ভবনের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিপেটা করে, নিক্ষেপ করে কাঁদানে গ্যাসের শেল। টিকিটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ঘণ্টা দেড়েকের সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। ইটের আঘাতে আহত হন পুলিশের কয়েকজন সদস্য। মিরপুর গোলচত্বর এবং এর আশপাশের এলাকায় ঘণ্টা দেড়েক বন্ধ থাকে যান চলাচল। টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফয়সাল আহমেদ নামের একজন চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছি টিকিট কিনতে। কিন্তু এখনো (গতকাল বেলা ১১টা) তা পাইনি।’ বাড়ির সামনে প্রজেক্টর দিয়ে খেলা দেখবেন বলে জানালেন তিনি। ফয়সালের মতো লাইনে দাঁড়ানো হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমীকে টিকিট না নিয়েই গতকাল মিরপুর ছাড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহবুব হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তা দিতে এসেছে। ব্যাংক কীভাবে টিকিট দেবে, সেটা তাদের ব্যাপার। ব্যাংক কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। তারা জানাচ্ছে না, টিকিট দেবে কি দেবে না। এতে আমরাই অবাক হচ্ছি। ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে আগে জানানো হলে এমন ঘটনা ঘটত না।’ প্রথম দফার সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পর আবার টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় জমতে থাকে। কিন্তু বেলা দুইটার দিকে টিকিট বিক্রি না করার ঘোষণা দেয় ব্যাংক। অবশ্য পরে বিকেল থেকে টিকিট বিক্রি চলে অল্প সময়ের জন্য। আবারও টিকিট শেষ হওয়ার ঘোষণা। আবারও টিকিটপ্রত্যাশী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ আর পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। থেমে থেমে এই পরিস্থিতি চলে ঘণ্টা খানেক। এরপর আর টিকিট বিক্রি হয়নি। টিকিটপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে মাত্র কয়েক শ টিকিট বিক্রি হয়েছে। সব টিকিট ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ক্রিকেট বোর্ডের দাবি, মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ২৫ হাজার আসনের প্রায় অর্ধেক টিকিট বিক্রির জন্য ব্যাংকে দেওয়া হয়েছিল। বিসিবির পরিচালক ও টিকিট অ্যান্ড সিটিং কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণ টিকিট দেওয়ার কথা ছিল সেটা দিয়েছি। এর পরিমাণ মোট টিকিটের ৪০ ভাগ।’ বিসিবির কর্মকর্তার বক্তব্যের হিসাবে ব্যাংকে ১০ হাজার টিকিট বিক্রির কথা। এ ব্যাপারে ইউসিবিএলের হেড অব করপোরেট জাভেদ ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

www.mktelevision.net/নাভিদ মুসতাসিম ঋষু/ইফতেখার/আল মামুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*