23

মোজাহিদ ইফতেখার হাবিব এর কবিতা

অথচ তারপর ও দীর্ঘশ্বাস

বাঁচবার উদযাপন,
বছর ঘুরিয়ে বছর নতুন ধারা তৈরীতে ব্যস্ত,
বিস্তৃত মনবিকার আওতাভূক্ত
চেতনভূমির স্বাভাবিক স্বভাব চরিত্র
শোষিত তন্ত্রের মন্ত্রে বশ হয়ে যায়।
দীর্ঘশ্বাসের ভাবমূর্তি থুবরে যাচ্ছে।
প্রশ্নে প্রশ্নতর, স্বভাব কংক্রিট।

কৃষ্ণাঙ্গ জীবন থেকে জ্বটার জটিল প্রয়াস
যা ভাঙ্গতে পারি না সহজ মন্তব্যে।

পাঠকগণ শুভেচ্ছা নিন্
গপ্প শুনার অভ্যেস আছে তো ?
যা শুনেছেন শুনেছি আমিও।

বালুনদীর জীবন ঘেষা পাথরি স্রোতের
সময় কামড়ে দিয়েছে কবিকে,
যা এতদিন, সহজ মনে হতো।
কিন্তু এখন নীলাভ বিষদাঁতে মানচিত্রে ছোবল মারে,
দ্বন্দ্বেই পূর্বে ফিরি। অস্থিত্ব যাক, বাঁচাটা কত মোলায়েম?

প্রিয়মুখ হারাতে বসে শোষনতন্ত্রে
বাঁচার ইচ্ছে ফুরায়, সবার যা একবার হয়
আমি ও তাই গোলটেবিলে নিজচোখ খুলে
তুলে রাখি অনাদৃষ্ট কালের ব্যবচ্ছেদের একট ব্যথা।

পাঠকগণ, আমার মত রোজ হয়েছেন ?
বিভাজিত অ্যামিবার প্রচ্ছদে,
জানেন কি ?
কখনো অ্যামিবা জলের চাঁদ, জলের সূর্য,
যা টিকটিকির ভয়ে আমার মত দেবতা হতে পারে না
তবু দেবাকৃতির কারুসত্তায় ছুঁয়ে দেখেছি,
দেখি নিজকে মিলিয়ে,
কত লম্বা হচ্ছি, শুধু অস্থিমজ্জাই ষোলআনা
এতে ধ্বংশ হচ্ছে হৃৎপিন্দের সবুজ পরিবেশ।

না হওয়াটাই ভাল,
চিন্তার সিঁড়িগুলোতে ক্যাক্টাস উপরোক্ত সমাজের কুখাদ্য,
অহংকার বসে পাহারায়।
বুঝতে পারি- বুজি না কিছুই
এই আগুণ, পানি, আকাশ, মাটি আর বাতাসের কবরে
যন্ত্রণাবিদ্ধ একটা জীবন কিভাবে অ্যামিবার স্বভাবে
ভাসমান, অথচ তারপর ও দীর্ঘশ্বাস
বছর ঘুরিয়ে দীর্ঘশ্বাস।
০৯/১২/১৯৯৫ ইং
দিনাজপুর

************************

20
শিশু ঘুমন্ত প্রতীক স্বপ্নের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায়

কোষ ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে স্বপ্ন গড়তে শিখছে ঘুমন্ত শিশু
সংযুক্তি কোষ স্বপ্নের ঘুমন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তা বেয়ে
শিশুর একলা চোখে হাটে,
লটকে লটকে, টোলে টোলে যায়,
ওই রাস্তার বুকে পিছলানো একমাত্র পায়ের ছাপ।
ব্যাপারটা অনুভবের,
শিশু চোখ খোলে শব্দার্থ পায়ের ছপে,
মৃদু শ্বাস প্রশ্বাসের কোষ ভাঙ্গা, ভীত ইঙ্গিত ভাঙ্গতে থাকে।
কুয়াশা তীব্রতর, এবার কুয়াশা ভাঙ্গে আর দৌড় দেয়।
জীবন মিলাতে যৌবনের মই বায়, কুয়াশায় মই বায়,
জমিনে অস্থিত্বের ফসল ফলায়, তবু মেলে না পায়ের ছাপ।
আবারও কান্ত চোখে স্বপ্ন দেখে…. ভাবে…..
আর কত বড় মানুষ হলে পায়ের ছাপ মানচিত্র হয়।
নিয়ন্ত্রনহীন ভাবনায়
প্রৌঢ় শিশু আবার কোষ ভাঙ্গতে শুরু করে
আর চিৎকারিয়া বলে
এখানে মানুষ কে এসেছিল
প্রতিধ্বনীত্ব কুয়াশার কোষ ফেটে তৈরী হয়
শামুকের পিঠ।
ভিতরে অবস্থানরত সত্তা প্রশারিত হয়
প্রৌঢ় শিশু শিশির ভেজা শিশুর ঘুমন্ত কুয়াশায় কোষ ভাঙ্গে ॥
ডিসেম্বর’১৯৯৫ইং
দিনাজপুর

************************

24
ঈশ্বরীর চুম্বনে ঈশ্বর মরে যায়

দোদুল দোলায় দুলিয়ে ভ্রুণ অন্ধকার তরঙ্গের ঘ্রাণ পেয়ে
চব্বিশ কপাটের অন্তহীন লড়ায়ে
সৃষ্টির জোড়া শষ্য বেড়ে ওঠে সম্মোহনে।

অমোঘ ভাঁজে খুঁজে ঈশ্বরের মুক্তির পথ
অথচ ঈশ্বরের ছোঁয়ায় ঈশ্বরী দোদুল দোলে
পৃথিবীর জন্ম হয়, আমাকে অশান্ত করে-
ঈশ্বর ঈশ্বরী হাসে।
হাসতে হাসতে ঈশ্বর ঘুমায়
ঈশ্বরী সাগর মাতায় নতুন আশ্চর্য পবিত্রতায়।
আমার পিঠে পৃথিবীকে রেখে
নিপূন সাঁতারে চোখের ঢেউয়ের বিস্তীর্ণ মোহনায় ভাসিয়ে দেয়।
আমি কষ্টে শক্ত পরশে ঈশ্বরের ঘুম ভাঙ্গাতে গেলে
ঈশ্বরী কণ্ঠ স্বাধে অশান্ত নগ্ন হাসিতে
তখনি ঈশ্বরের ঘুম ভাঙ্গে
সে লজ্জায় পৃথিবী চুম্বন করে,
পৃথিবী কেঁদে আমাকে ঈশ্বরের কাছে হামাগুড়ি দেয়।
আর তখনি সে, শান্ত হেঁটে পাথর জলের উৎচ্ছলতায়
আমাদের সরিয়ে দিয়ে
ঈশ্বরী ঈশ্বরকে প্রকাশ্য চুম্বন করে।
ঈশ্বর আর্তনাদ করে মরে যায়
ঈশ্বরীর চুম্বনে ঈশ্বর মরে যায়।
পৃথিবী চোখ খুলে দেখে, আমি দেখি
ঈশ্বরের মৃতদেহ নির্বাসনে পাঠানো নির্দেশনায়
জল্পিত আমাকে কফিম বানিয়ে ঈশ্বরকে মমি করে
চিরদিনের জন্য বাঁচিয়ে রাখি ॥

************************

29

অস্থিরতার নাটকীয় মোড়ক

বিস্বাদ সময়ে আমরা কাছাকাছি জনস্রোতের যান্ত্রিকতায়
ষ্টেশন কিংবা বাসষ্ট্যান্ডগুলোতে একই অস্থিরতার মোড়ক।
বর্ণনা হচ্ছে
অপো নিদিষ্ট গমনের পরিকল্পনা সাজানো
দু’টি চায়ের কাপে একটি হৃদয় দু’জনার
তখনি পড়ে বাদুর ঝোলা বখাটে দৃষ্টি
পাশ কাটানো নেড়িকুত্তার পোংটামো আর
ত, জীর্ণ ভঙ্গকন্ঠে প্যান প্যান
“আম্মাগো দেন না দু’দিন অনাহারি জীবন”
অথচ পান মুখে সবার শ্লোগন,
শুধু নাট্যকার আর নেড়িকুত্তা ছাড়া।
বখাটে যুবকের সিগারেট জ্বলে যায়
প্রগাঢ় ধোঁয়ায় আমাদের চেয়ে থাকতে হয়
আকাশ কিংবা মাটিতে।
একজন রমনী দেখলেই গণতন্ত্রের চর্চা হয়
কোমড়ের নীচে গণতন্ত্র হ্যান্ডসেক করে ডিগ্রী মেলায়।
অভিজ্ঞতার পান্ডুলিপি যান্ত্রিক জীবনের প্রতিচ্ছবি
এক টুকরো সময়ের চিন্তার ফসল
অপেমান সরলদোলকীয় স্পন্দন বুঝতে পারে।
৫/১২/১৯৯৫ ইং
রংপুর

******************

26

মা

চিবুকের অন্তর গভীরে ছাতিফাঁটা প্রতিধ্বনি
জীবনের প্রথম সারি থেকে আদি যৌবন পেরিয়ে
শেষবার্তা বাহকের মুখপানে
আকুল করুণায় চেয়ে থাকা
দৃষ্টি ডৌলের কাছাকাছি পর্যন্ত একটি শব্দ।
পৃথিবীর এক প্রান্তে চিৎকার করে যদি ডাকি
সারা সীমান্তে পেণাস্ত্রগুলো নতুন ঝংকারে
পাক খেতে খেতে একটি কুন্ডলিতে রমিত হবে।
কত না আশা ফিরবে
যে কোন পথের মোহনায় অন্তর গভীরে
বিষ্ফরিত কুন্ডলির অসাধারণ প্রশ্বাসে।

আজ আমি উৎবিগ্ন কন্ঠে আবেগ ভরে বলছি
মা গো আমি তোমারি সেই সন্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*