Home সাহিত্য ওপিঠ এপিঠ= মোজাহিদ ইফতেখার হাবিব এর কবিতা

ওপিঠ এপিঠ= মোজাহিদ ইফতেখার হাবিব এর কবিতা

621
0

মোজাহিদ ইফ্তেখার হাবিব এর কবিতা
অশ্রু গজায় চালানকৃত চাঁদের মত

সুরঙ্গের অন্তরালে কতক আঘাতে
একটি দীর্ঘশ্বাসে গড়িয়ে
এক ফোঁটা অশ্র“ গজায়,
তারপর-প্রমত্ত পরিবেশে চালন হয়ে যায়
গোধুলীর ভগ্ন আঙ্গিনায়
যেভাবে পৃথিবী থেকে চালন হয়েছে চাঁদ ॥
১৮-১১-১৯৯৯৩ ইং
দিনাজপুর

কৃতদাসের জ্যোৎস্নায় পদ্মের মৃত্যু ঘটে অসভ্যের
মেরুদন্ডে নিজেস্ব শিহরণ

জাতির মেরুদন্ডে ছায়া বেষ্টিত রাজপুচ্ছের দৃষ্টি
ঢেকে যায় অসভ্যতন্ত্রের ছোঁয়ায়,
সেই সুবাদে জাতির দেহটা কৃতদাস বনে গিয়ে
রাজ দৃষ্টিতে নিজস্ব একটি পদ্মের মৃত্যু ঘটায় আর
সেখানে চাঁদের অনুপস্থিতে কৃত্তিম জ্যোৎস্নায়
নিজ দেহকে উলঙ্গ করে জ্যোতি ছড়িয়ে
রাত্রিকালীন পদ্মের সাথে হারিয়ে যায়
আর সেখান থেকে নব্য কৃতদাসের জন্ম হয় ॥
১৯-১১-১৯৯৩
দিনাজপুর

নাস্তিকের পান্ডুলিপিতে সম্পাদকের বসবাস

আতশী চোখ পড়ে টেবিলের স্থির পেপার ওয়েটের বিচুরণে
একবিন্দু আলোক কণায় বিষবর্ণে তীর ছুটে চোখের সম্পাদনায়
যেন সূর্যের মুচকি হাসি
নাস্তিকের মত।
সূর্যের সাথে নাস্তিকের মানে পেপার ওয়েটের
আলোক বিচুরণের মাঝে নাস্তিকের মিল অদ্ভূত রকম।
আলোতে এদের রঙ্গবাহার
আঁধার হলে অস্বিত্বের প্রৌঢ়বর্ণে মৃত্যুর গন্ধ শুকে
অশ্র“র কিংবদন্তীর সভ্যতায়।
অন্ধকারে পেপার ওয়েট ভয়ঙ্কর মৃত্যুপিন্ডে
পরিণত হয় একটি নাস্তিককে দেখলে বোঝা যায়।
কি করে ঝুলন্ত অশ্র“তে আঁৎকে ওঠে মৃত্যর প্রোপট।
নাস্তিক আস্তিক সাজে মৃত্যুর ঘোরে
পূর্বাকাশের ঝলকানি আদি সভ্যতার
অপো পর্যন্ত ॥
০২-০১-১৯৯৪ ইং
দিনাজপুর

প্রেম শোধিত ফলক

প্রেমের ক্রোমোজোমে মোহের ফসিল
এটি অবনত সন্ধ্যায় বিশ্বাস গিলে,
ভালবাসার প্রেম পেখমাবৃত
মন শ্রবণান্দ্রে.
ভালবাসার করুপল্লীতে তুলির রংধনুতে প্রেম
হৃৎপিন্ডের প্রকোক্টে তবলার বোল
রাতের চোখে কন্তির শিশির
ঘুমন্ত তারার ঠোঁট লেপটে মেঘের আর্তনাদ।
আহা সমাধিতে সভ্যতার কিরণে
(মৃত্যু) ভুলকে তপ্ত করো না।
না- না অহেতুক (ভুল বুঝো না) আত্মঘাতী আভাসে,
বাস্তবমুখী প্রেম হোক হৃদয় মাপের শোধিত ফলক ॥
চেতনার অশ্র“পাতে রক্তাক্ত সময়

রক্তের ঘামে মিশে আর কত লিখবো কবিতা
স্তুবাকৃতি পান্ডুলিপির হৃদ্যগর্ভে এযে নষ্ট সময়
সজীব মননে মাকড়সা কবিতার ভ্রুণে রক্ত চোষে
চিৎকার করে অশ্র“ অথচ নিরবে ঝরে যায় ……
আত্মহতির স্পন্দন পালঙ্কে দোলে ।

দেখ চেয়ে দেখ,
আমি লাশের সাদা কাফনে ও লিখেছি কবিতা,
এ যেন কবিতা নয়
দালালদের চিকামারা দেয়ালের প্রচ্ছদে
কলমকে কবরের প্রস্তুতি।
আমি কি করে ডুকরে কাঁদি দেয়ালের পিটে, দেখ-
ওপারে লাশ, এপারে আমি……
অশ্র“ দৃষ্টি দেখতে চায় না রক্তাক্ত বিশ্বাস।

জাতির নাভিতে কাঁকর, চেতনা ছিনতাই
বর্ণমালার আকাশে কালপুরুষ খোঁচিত কিংবদন্তী
ষড়ঋতু মিশে গ্যাছে রক্তের ঘামে, কান্নার ঘামে ।
বিকলাঙ্গ প্রজন্ম চোখম্যালে
প্রার্থনা ইন্দ্রে শব্দার্থ নিয়মাবলীতে যা পাওয়া
শতাব্দীর ফসিল,

থরে থরে বাতাসের চাকে
এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়
চেতনার মরা ঝিলে ?

বন্ধুগণ,
অভিমান করে নয়
আমি গেলে এদেহ নিরাকার,
তবু শুন্যস্থান পূরনে চেতনা গজাবে অনুরুপ
আমারি কণ্ঠস্বরে তবে আমি নই।

তবু তবুই আমি
রক্তাক্ত কবিতার অশ্র“পাতে ইতোজন্মের স্বার দিব।
টেরি জাতি দেখবেনা
শুধু দেখবে উনুনের পাশে ঝরাপতার শিরায়
আমারী দুঃখী মা, দ্বারস্ত স্তনের লালিত
এক আত্মহতি যুবকের নাম
তবু সে চিনবে.., চিনবেনা….।
২১-১০-১৯৯৪
দিনাজপুর

শিহরণ

ঘাতক গুলি ছোঁড়, ঘাতক গুলি ছোঁড়,
আবার ও বলছি, ঘাতক গুলি ছোঁড়-
আমাকে লক্ষ্য করে ট্রিগার চালাও
গুলিতে ঝাঁঝরা হোক এবুক আমার।
এই পিতল ক্রুগ্ধ ক্যাপসুল
আমার শরীরের জন্য প্রস্তুত করেছো,
চালাও গুলি যত ইচ্ছে তোমার।
তোমার ওই যান্ত্রিক দানব কতবার মারবে আমাকে
একবার মরেছি, দুইবার মরেছি, হাজারবার মরেছি,
তথাপি ঢেরগুণ বেঁচে আছি।
ঘাতক গুলি ছোঁড়ো……
মানবতাবাদীহীন ওই যন্ত্র তাক করো আবার
হুলিয়া ছুটে দাও,
তোমার বেঢড়া শরীরের রক্তাক্ত ঘামে
ট্রিগারের চাঞ্চল্য আঙ্গুল পর্যন্ত,
ঘাতকগুলি ছোঁড়ো….
আমি আবার দাঁড়িয়েছি
তোমার লালায়িত দৃষ্টি জিহ্বার বিরুদ্ধে।
মনোবল হারিও না- তাক করো,
তোমার ওই রক্ত পিপাসু যন্ত্রে
কমপে আর একটিবার আঘাত হেনে দেখ
হু-হা-হা-হা
আর পারছো না
পারবে না কোনদিন কারণ-
বহুবার তুমি ব্যবহৃত হয়েছো সভ্যতাত্তিকের বিরুদ্ধে
বহুবার তুমি গর্জে ওঠেছো আমার বিরুদ্ধে,
বহুবার তুমি বাংলার কাঙ্খিত মাটি লাল করেছো,
বহুবার উত্তপ্ত মশাল রক্তের বরষায় নিভিয়ে দিয়েছো,
আর নয়, পাবে না কোন প্রশ্রয়
ফুঁপে ওঠেছে স্বাধীন আকাশের পরাধীন বাতাস
ক্রন্দনরত শ্বাসে আজ অগ্নি জ্বলছে।

ঘাতক, যতই সাজাও তুমি সশস্ত্র সবুজ েেত্রর দূর্গ
হতাশায় প্রজ্জলিত আমার প্রশ্বাস,
ঘিরে ফেলেছে তোমায়।
আজ হতে কখনো কাবু করতে পারবে না-
কারণ-
তোমার মন্ত্র ওই বুলেট।
সাম্যভেদের টিলা থেকে তোমাকে নামতেই হবে
আমি শুধু একক বাঙ্গালী বেষ্টন নই
এই জাতির চিরাচরিত ইতিহাসের ধমণীর প্রতিটি শিহরণ
আমি প্রবঞ্চিত বৈপ্লবিক শিহরণ
আমি স্বাধীন শিহরণ।

বাতাসের গর্ভে সময়ের বীজ

বিনিদ্র সময়ের বীজে আগুণী সময়
কালের উচ্চারনে সাপের জিহ্বায়
কবিতা হত্যা হয়
জন্মের নগ্ন বিছানায়।

কবিতার জন্ম গর্ভাস্থ নাভীর মঞ্জুরীতে
রঙ্গীন ক্রোধের মলাট জড়ানো কালচে রাত্রিসমাজ
ভ্রুণ সম্পর্কীত প্রশ্ন তোলে আর খুঁড়ে,
দ্বায়বদ্ধ অন্ধকার খুঁড়তে খুঁড়তে দরজা ভাঙ্গে
মিথ্যে ঠোঁটে মিথ্যেই সত্যের অলংকৃত ঠোঁট।
রাত্রির মখ্মল আঁধারের সেই ঠোঁট
পরিমাপ করে প্রচ্ছদের রাত্রিচর হিসেবে
তাইতো আগুণ আগুণ সময়, সমাজের ধোঁয়ায়
আতিথেয়তা করে বাতাসের গর্ভে,
আর সেখানে জন্ম দেয় কাটুন কবি’র।
১৮-১১-১৯৯৪ ইং
দিনাজপুর

খেদোক্তিত যুদ্ধ
বহুতিতিায় সাবলম্বী একটা আঘাতে বঞ্চিত সে
জানা যায়নি কোন সমীকরণে
তবে অন্তরে অশ্র“বর্ষনে কোন গোত্রের কর্ণমূলে বসে
বয়সের নদীতে কুলের সন্ধান করেছিল
বলেছিল কি আমায় শুন-
“কাঠামোর অভিমানী প্রজন্মের খেদোক্তিত যোদ্ধা
লাঙ্গল ধরো মৃত নগরীর লাশের স্তুপে”
বুঝতে পারিনি একজনের আশ্রিত মাথায় এ কোন চাষবাদ !
চা খেতো সে চোখের জলে,
হঠাৎ কে বা কখন ডাক দিয়েছিল
ফেরেনি আর
এখন সংবাদ জুটে
রক্তের ঘৃণিত অভিমান।
একাত্তরের কথা নয়। নব্বই দশকের সিঁড়িতে পা রেখে
রক্তচোষা ঢুকেছে রাত্রিবাসরে।
আহ্ জীবন্ত একটা অপমান
বৃষ্টির শিহরিত কোলাহল।
স্বচে ভীড় ঠেলে উঁকিয়ে আয়ত্ব করে দেখেছি
অস্থির দু’চোখে, খেদোক্তিত যুদ্ধের ভাসা হৃদয়।
ফোস্ করে ওঠল কোলাহল
মরে যাবার ভয়ে বিকৃত দেহের পলায়ন
তবে কেউ জানে না, অথচ এদিকে
দারুন গ্রীষ্মের বুক থেকে রক্ত
মুখ থেকে মানচিত্র বেরিয়ে
আশ্রিত পলক বাতাসকে সুরসুরি দিয়ে
সব থেমে গেল আগের মতন ॥
১৩-০৩-১৯৯৫ ইং
দিনাজপুর

ছায়ার কার্ডিওগ্রাফে প্রেমের বাঁশবন

ভালবেসে কেন জানি আমাকে এলোমেল করে দিলে
ভোরদৃষ্টিতে দুয়ার খোলা স্বপ্নধ্বনির পরশে
বুঝে নিয়েছি, চাঁদের ছায়াতে আমি এঁটে গ্যাছি।
তুমি দ্যাখ, পূর্ণচাঁদে আমার বিশ্বাস কিভাবে লটকে,
দ্বায়িত্ব ভরে স্বপ্নে জানালে ছায়ার প্রশস্ত অপেক্ষা।

আমি সূর্য দেখিনি তখনও
ওমনি তুমি আকাশ, আমাকে সাগর বানিয়ে
সাগর বুকে দাঁড়িয়ে বললে
তোমার স্বপ্ন হলো বাঁশবন
যাতে বিন্দু বিন্দু ভীতি আশ্বাসের ছাঁচে
রংতুলির দৃষ্টিবিধুর, প্রেমের কার্ডিওগ্রাফ।
একটা বালুঝড়ের ঘূর্ণ দৃষ্টিতে
ভালবাসার স্মারক লিপি,
কিছু অরে ছায়া পড়েছে ব্যথার কালিতে
তবে প্রেমে এত ছায়া কেন ?
বুঝি তো এখন
ভালবাসলে মানুষকে কাঁদতে হয়
আকাশ দৃষ্টিতে, সাগরের ঢেউয়ে,
এই কারণে জানতে চেয়েছো
ছায়ার কি রং, কোথায় থাকে
সাগরে না কি আকাশে ?
তাই তো এলোমেলো হয়ে গ্যাছি সেই থেকে।
ভালবাসলে মানুষ কাঙ্গাল হয়
নিজের অস্তিত্বের কাছে বাঁচার অনুপ্রাসে
চোখের নিবন্ধ নিস্তেজ
মাত্র কটা সময়ের বিবর্তনে।

০৩-১১-১৯৯৫ ইং দিনাজপুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here